অপুর পাঁচালি - সত্যজিৎ রায়
‘অপুর পাঁচালি’ সত্যজিৎ রায়ের ইংরেজিতে লেখা স্মৃতিকথা ‘মাই ইয়ার্স উইথ অপু’র বাংলা অনুবাদ। ইংরেজি বইখানি প্রকাশের আগেই বাংলায় দুই কিস্তিতে ‘দেশ’ পত্রিকার শারদীয় ১৪০০ ও ১৪০১ সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থাকারে ‘বর্তমান মুদ্রণ তারই কিঞ্চিৎ পরিমার্জিত রূপ।
‘পথের পাঁচালি’, ‘অপরাজিত’ ও ‘অপুর সংসার’—এই ত্রয়ী-চলচ্চিত্র ছাড়া সত্যজিৎ যদি আর কোনও ছবি না-ও তৈরি করতেন তবু সিনেমার ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকত। কেমন করে, কতখানি বাধা-বিপত্তি ও বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্যে তিনি সৃষ্টির এই সার্থকতায় পৌঁছেছিলেন তার নেপথ্য-কাহিনী ‘অপুর পাঁচালি’। ভবিষ্যৎ চিত্র-নির্মাতা, চিত্র-দর্শক ও সাধারণ পাঠক এ-কাহিনী সমানভাবে উপভোগ করবেন।
লেখক হিসেবে সত্যজিৎ ধীরে-ধীরে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু সে শুধু সর্বজনভোগ্য রোমাঞ্চকর কাহিনীর স্রষ্টা হিসেবেই নয়, সেই সঙ্গে সমালোচক ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবেও তাঁকে সার্থক হতে দেখেছেন বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষার পাঠক।
‘মাই ইয়ার্স উইথ অপু’ তথা ‘অপুর পাঁচালি’ নিজের ও নিজের কাজ সম্পর্কে তাঁর সর্বশেষ রচনা—যেমন আপন শৈশব ও কৈশোর নিয়ে এর আগে বাংলায় লিখেছিলেন অসামান্য বই ‘যখন ছোট ছিলাম’। নিজের সম্পর্কে এর বেশি আর কিছুই তিনি লেখেননি।
১৯৯৫-এ চলচ্চিত্রের শতবর্ষ পৃথিবী জুড়ে উদ্যাপিত হচ্ছে। বিশ্ব-চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভা সত্যজিৎ রায়ের এই বইখানি এ-বছরের শুরুতেই প্রকাশ করতে পেরে আমরা স্বভাবতই বিশেষ আনন্দিত।
শ্রীনীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও শ্ৰীনির্মাল্য আচার্যের সতর্ক দৃষ্টি ও যত্ন ব্যতিরেকে এই গ্রন্থের প্রকাশ সম্ভব হত না। তাঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
২৫ জানুয়ারি ১৯৯৫

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন